Author

Hasanul Karim

Browsing

লক্ষ্মীপুর নামকরণের সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, রাজা গৌরকিশোর রায়ের সহধর্মিণী রাণী লক্ষ্মীপ্রিয়া রায়ের নামানুসারে লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ করা হয়। আবার অনেকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ণের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম রাখা হয় লক্ষ্মীপুর। নিজের জেলার ঠিক পাশের জেলাই লক্ষ্মীপুর। চাঁদপুর এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগে লক্ষ্মীপুর যেতে। জীবনের তেইশটা বছর চাঁদপুরে কাটিয়ে দিয়েও লক্ষ্মীপুর যাওয়া হয়নি। তাই এবারে যখন তিনদিনের ছুটি পেলাম স্কুল থেকে, তখনই ঠিক করলাম লক্ষ্মীপুর যাব। সর্বনাশা বটের শিকড়ের আধিপত্য। Source:…

আমার প্রিয় দুই নদী মেঘনা-ডাকাতিয়া কলকলিয়ে বয়ে গিয়েছে লক্ষীপুরের বুক চিরে। তাই লক্ষ্মীপুরের প্রতি অন্যরকম টান অনুভব করি। নারিকেল, সুপারি, ধানক্ষেত আর পানের বরজের সবুজ নিয়ে অপরূপ মহিমায় সেজেছে লক্ষ্মীপুর জেলা। দালালবাজার থেকে কামানখোলা জমিদার বাড়ি দেখতে যাওয়ার পথেই পেলাম তার সেই শ্যামল সবুজ রূপ। দালালবাজার থেকে কামানখোলা জমিদার বাড়ি কাছেই। রিকশায় ২০ টাকা ভাড়া। পিচঢালা সরু রাস্তার দুই ধারে নারিকেল-সুপারি গাছের বাগান। এরকম বাগান আমাকে নস্টালজিক করে দেয়। কারণ আমার ছোটবেলার সবচেয়ে ভালো সময়গুলো…

বাংলার ভূমি প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। বাংলাদেশের ভূমিতে প্রাচীনকাল থেকে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য স্থাপনা, জমিদার বাড়ি। কালের স্রোতে অনেক নির্মাণ ম্লান হয়ে গেলেও স্থাপনাগুলোর তাৎপর্য, মাধুর্য রয়ে গেছে। প্রাচীন স্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক স্থাপনা। গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, নারায়ণগঞ্জের তাজমহল, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড,  বরিশালের গুটিয়া জামে মসজিদ ইত্যাদি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। আধুনিক স্থাপনাগুলোও এক সময় কালের ধারক হয়ে থাকবে। সময়ের সাথে সাথে এই স্থানগুলো সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে। স্বল্প…

নিজের দেশকে, দেশের প্রকৃতিকে অনেক বেশি ভালোবাসি। অবাক হই দেশের বিভিন্ন রত্নভাণ্ডার দেখে। তবে পাশের দেশ ভারতের একটা দিক আমায় বেশ অবাক করে, একই দেশে একই সময়ে হরেক রকমের আবহাওয়া, একটি আরেকটির সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতে উত্তরের দিকে গেলে যেখানে শুভ্র বরফ পাওয়া যাবে, সেখানে যত দক্ষিণের দিকে যাওয়া হয় গরমের উত্তাপ বাড়তে থাকে। একই সময়ে পাহাড়ের উঁচুতে বরফ দেখা যায়, আবার সেই সময়েই দেখা মেলে ধূ ধূ মরুভুমির বুকে উটের পদচারণার। হিমাচলে গেলেও মরুভূমি দেখা…

অ্যাডভেঞ্চার যদি হয় আপনার নেশা, দুর্জয়কে জয় করার আনন্দে যদি চান বিভোর হয়ে যেতে, সর্বগ্রাসী আতঙ্ককে যদি চান খুব কাছ থেকে অনুভব করতে কিংবা টিকে থাকার ঘুমন্ত আদিম প্রবৃত্তিগুলোকে জাগিয়ে তুলে যদি খুঁজে পেতে চান বেঁচে থাকার তীব্র আনন্দ, তবে আজকের এই লেখাটি আপনার জন্যই! অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা আমাদের তেরো জনের দলটি গত বছর ছুটে গিয়েছিলাম মৌলভীবাজার, হামহাম নামের জীবন্ত জলপ্রপাতটির দেখা পেতে। তারচেয়েও বড় কথা, সেটা ছিল তিন নম্বর বিপদ সংকেতের মাঝে!…

বাপের বাড়ি চাঁদপুর সদরে। মায়ের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়া গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই এই লোহাগড় গ্রাম, মঠ আর জমিদার বাড়ি নিয়ে অনেক কেচ্ছা শুনেছি। প্রাচীনত্ব, এ যেন মায়ার আরেক রূপ। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যমান এই মায়ার অতীত রূপটা মোটেও এত কমনীয় ছিল না। বরং তা ছিল অনেক বেশি নৃশংস। প্রায় ২০০ বছর আগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ চান্দ্রাবাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের এক গ্রামের জমিদার ছিলেন রামমোহন রায়। তার দুই ছেলে লোহ ও গহড়। এই দুই ভাইয়ের নামে…

শেরপুরে ঢুকতেই প্রবেশ পথে একটা পাথরের হাতি শুঁড় তুলে আমন্ত্রণ জানায়। ওটাকে দেখে প্রথমেই আমার মনে প্রশ্ন এল, শের মানে তো বাঘ। হাতির সাথে শেরপুরের সম্পৃক্ততা কী? গজনী অবকাশকেন্দ্রে যাওয়ার সময়েও একই প্রশ্ন খোঁচাতে লাগলো। গজনী মানে তো হাতি। হাতি নিয়ে এত মাতামাতি কেন? গজনী যাওয়ার পথেই পেয়ে গেলাম জবাব। কৃত্তিম লেক, গজনী অবকাশ, ঝিনাইগাতী। Source: tripmondo.com বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকা বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামকেই জানতাম। ঢাকা বিভাগেও পাহাড়ের সারি আছে, না দেখে যেন বিশ্বাসই করা যাচ্ছিল…

বাড়ি চাঁদপুর হবার সুবাদে প্রায়শই নর্থব্রুক রোড ধরে সদরঘাট যাওয়া হয়। যাওয়ার পথে একটা লাল বাড়ি চোখে পড়তো সবসময়ই। মনে প্রশ্নও জেগেছিল, এটা কার বাড়ি? কিন্তু কৌতূহল মেটানোর জন্য ভিতরে ঢুকে দেখা হয়নি। তারপর এই সেদিন ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি দেখার জন্য রিকশায় চেপে বসেছিলাম। রিকশাওয়ালা যখন সেই পরিচিত লালবাড়িটার সামনে নামিয়ে দিয়েছিল, তখন নিজের বোকামি দেখে হেসে ফেলেছি। ফরাশগঞ্জে অবস্থিত লালকুঠি ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও সৌন্দর্যময় স্থাপত্য নিদর্শন। দালানটি লাল রঙের হওয়ায় এটি লালকুঠি নামে পরিচিত।…

সবুজ শ্যামল বাংলার অপরূপ রুপের অধিকারী জেলা রাঙামাটি। পাহাড়ের সবুজ আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে চোখ জুড়ানোর জন্য অনবদ্য এই রুপসী জেলা। এখানে পাহাড়ের পরতে পরতে যেন স্বর্গ সুখের অনিন্দ্য ছোঁয়া লুকিয়ে আছে। প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা প্রতি বছর এখানে ভিড় জমায় প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ দেখতে। রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালি, শুভলং ঝর্ণা, ধুপপানি ঝর্ণা দেখলে মনে হয় কোনো এক দক্ষ চিত্রশিল্পী যেন মনের মাধুরী মিশিয়ে অপরুপ সুন্দর এই স্থানগুলো তাঁর নিপুণ কালির আঁচড়ে এঁকেছেন। সত্যিই মনোমুগ্ধকর জায়গা এই…

রাজস্থানের কথা মাথায় আসলেই দুটো মূল ব্যাপার মাথায় চলে আসে। একটা হলো রাজস্থানের গরম আর দ্বিতীয় হলো সারা বছর ধরে চলতে থাকা রাজস্থানের বারো মাসের তেরো পার্বণ। সংস্কৃতি আর রঙিন উৎসবের প্রদেশ রাজস্থান, ঐতিহ্যের প্রদেশ রাজস্থান। রাজস্থান গিয়ে সেখানকার উৎসবে যোগ না দিলে, উৎসবের রঙ, রূপ আর গন্ধে মেতে না উঠলে ১৫ আনাই বৃথা রাজস্থান ভ্রমণের। জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতির দারুণ মেলবন্ধনে রাজস্থানের প্রতিটি পার্বণ মনে জাগায় প্রাণের স্পন্দন। আজকে আমাদের আয়োজন সেইসব বর্ণিল উৎসব নিয়ে।…