বাপের বাড়ি চাঁদপুর সদরে। মায়ের বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোহাগড়া গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই এই লোহাগড় গ্রাম, মঠ আর জমিদার বাড়ি নিয়ে অনেক কেচ্ছা শুনেছি। প্রাচীনত্ব, এ যেন মায়ার আরেক রূপ। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যমান এই মায়ার অতীত রূপটা মোটেও এত কমনীয় ছিল না। বরং তা ছিল অনেক বেশি নৃশংস।

প্রায় ২০০ বছর আগে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ চান্দ্রাবাজার থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের এক গ্রামের জমিদার ছিলেন রামমোহন রায়। তার দুই ছেলে লোহ ও গহড়। এই দুই ভাইয়ের নামে গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছিল লোহাগড়।

লোহাগড়া মঠ। সোর্সঃ লেখিকা

লোহা ও গহড়ের অত্যাচারের ভয়ে তৎকালে সাধারণ মানুষ তাদের আলিশান বাড়িটির সামনে দিয়ে চলাফেরা করতে পারতো না। বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে নৌকা চলাচল করত নিঃশব্দে। গর্ভবতী কোনো নারীকে দেখলে, ঐ নারীর পেটে ছেলে না মেয়ে আছে তা নিয়ে নিজেরা তর্ক করতো। তারপর তর্কের ফলাফল পাবার জন্য মহিলার পেট কেটে পরীক্ষা করতো, পেটে ছেলে ছিল নাকি মেয়ে!

এই এলাকার বয়স্ক মানুষজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গল্পের সূত্রে জানা যায়, লোহ ও গহড় এতটাই হিংস্র ও বর্বর ছিল যে, কোনো যুবতী মেয়ে তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে সাহস করতো না। কারণ, কোনো সুন্দরী নারীকে দেখলে সে নারী সতী না অসতী তা তারা দু’ ভাই মিলে সেই নারীকে ধর্ষণ করে পরীক্ষা করতো। সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, আরেক অত্যাচারী জমিদারের মেয়ে পর্যন্ত এদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।

ঘটনাটি এরকম, সে সময়ে দুর্গাদি নামে ছিল আরেক অত্যাচারী জমিদার, যে নিজেকে মেঘনার পূর্ব পাড়ে শক্তিশালী জমিদার মনে করত। সেই দুর্গাদির মেয়েকে বিয়ে করতে লোহা ও গহড় গিয়েছিল দুর্গাদির বাড়িতে। দুর্গাদি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে দু’ ভাই মিলে দুর্গাদির মেয়েকে ধর্ষণ করে কেটে টুকরো টুকরো করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়।

বড় মঠ। সোর্সঃ লেখিকা

অত্যাচারী এ দুই সহোদরের হাত থেকে রক্ষা পাননি তাদের গর্ভধারিণী মা-ও। দুই সন্তানের কাছে আম ও দুধ খাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন তিনি। দুই ভাই একটি পুকুর কেটে সেটি দুধ ও আম দিয়ে পরিপূর্ণ করেন। তারপর মাকে সেই আম-দুধের পুকুরে চুবিয়ে মারে। দোষ ছিল একটাই, এ সামান্য জিনিস তাদের কাছে চাইবে কেন!

এই পুকুরটির মেঝে এবং পাড় কংক্রীট দিয়ে চৌবাচ্চার মতো তৈরি করা হয়েছিল। সে পুকুরটি এখনও বিদ্যমান আছে। পুকুরের পানি নীল ও স্বচ্ছ। খেয়াল করে দেখলে বোঝা যাবে, পুকুরটি সাধারণ পুকুরের মতো গোলাকার নয়, আয়তাকার। পাড়গুলো একদম মসৃণ। ১২ ফুট চওড়া পুকুরের ঘাট। একটু সামনে এগোলেই দেখা যাবে একটা পাড় ভাঙা। ওখানটায় মাটি ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সেকেলে লাল ইটের দেয়াল আর কংক্রিট। এর মানে, লোককথাগুলো মোটেও উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়!

নানুবাড়ি যাওয়ার সুবাদে ২-৩ বার মঠে ঘুরতে গেলেও তখন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয়নি। তাই এবারের ছুটিতে যখন চাঁদপুর গেলাম, ভাবলাম, নানুবাড়ি যাওয়া হয় না অনেক বছর; এক ঢিলে দুই পাখি মেরে আসি। নানুবাড়ি বেড়াব, মঠ ঘুরে আসব। চাঁদপুর সদর থেকে লোহাগড় মঠ কয়েক কিলোমিটার দূরে। বাসস্ট্যান্ড থেকে টুবগি পর্যন্ত সিএনজিতে এলাম, ২০ টাকা করে ভাড়া।

সেখান থেকে ভাইবোন দুজনে রিকশা ঠিক করলাম মঠে যাওয়ার জন্য। ভাড়া নির্ধারিত হলো ৮০ টাকা। পরে জেনেছি রিকশা ভাড়া ৫০-৬০ টাকার বেশি নয়। রাস্তা খুবই খারাপ। তাই যারা অন্য শহর থেকে সীমিত সময় নিয়ে মঠ দেখতে আসবেন, তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে সিএনজি আসা-যাওয়ার জন্য রিজার্ভ করে ফেলা। ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকার বেশি নয়।

কালের সাক্ষী হয়ে একা দাঁড়িয়ে থাকা। সোর্সঃ লেখিকা

খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ঝাঁকি খেতে খেতে মঠ পর্যন্ত গেলাম। স্থানীয়রা এটাকে মঠখোলা বলে ডাকে। রিকশাচালক শর্টকাট রাস্তা দিয়ে না নিয়ে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে গেল। এতে অবশ্য ভালোই হয়েছে। কারণ মঠের সাথে যে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জমিদারবাড়ি আর মন্দিরের অবশিষ্টাংশ এখনো টিকে আছে, আমি জানতামই না। এর আগে যতবার মঠে গিয়েছি, কোনোবারই এই জমিদার বাড়ি বা মন্দির দেখিনি। কারণ প্রত্যেকবারই মঠে গিয়েছি শর্টকাট রাস্তাটা ধরে। নানুবাড়ির কেউ কখনো বলেওনি এখানে জমিদার বাড়ি আর মন্দিরগুলোও টিকে আছে। হয়তো ওগুলোতে এখনো লোকজন বসবাস করে বলেই সেসবে আগ্রহ নেই ওদের।

রিকশা থেকে নেমে ভাইটা আসরের নামাজ পড়তে গিয়েছে। নামাজ পড়ে মঠে চলে যাবে। আমি একাই সদ্য মাটি কেটে উঁচু করা রাস্তা দিয়ে হেঁটে সামনে এগুচ্ছি। ৩-৪ মিনিট হাঁটার পর খেজুর গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মঠগুলো চোখে পড়লো। প্রায় রাস্তার ধার ঘেঁষে একটা পুকুর টলটলে স্থির পানিতে সূর্যদেবের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। সন্দেহ হলো, এটাই কি সেই পুকুর?

এই পুকুরটির মেঝে এবং পাড় নাকি কংক্রীট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। খেয়াল করে দেখলাম, পুকুরটি গোলাকার নয়, আয়তাকার। পাড়গুলো একদম মসৃণ। ১২ ফুট চওড়া এই পুকুরের ঘাট। একটু সামনে এগোতেই দেখি একটা পাড় ভাঙা। ওখানটায় মাটি ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সেকেলে লাল ইটের দেয়াল আর কংক্রিট। স্থানীয় একজন লোক আর দুটি ছোট ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল ওখানে। জায়গাটা যেন সাবধানে পার হই, সে কথা বললো। আমাকে দেখে শহুরে মেয়ে ভেবেছে। তার উপরে একা। সুযোগ পেয়েই কংক্রিটগুলো দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এগুলো কি মঠের ভাঙা অংশ?’ উত্তর এলো, ‘না, জমিদাররা পুকুরের পাড় পাকা করেই বানাইছিল।’ তাহলে এটাই সেই পুকুর। সন্দেহ রইল না আর।

উপরতলায় ওঠার সিঁড়ি। সোর্সঃ লেখিকা

আমি মঠের দিকে হাঁটতে শুরু করার পর লোকটা পিছন পিছন আসতে আসতে জিজ্ঞেস করছিল, কোত্থেকে এসেছি, আজই ফিরে যাব কি না। খানিক বাদেই পিছন থেকে বললো, ‘জায়গাটা ভালো না। আজেবাজে লোক আছে।’ আমি হেসে বললাম, ‘আমার সাথে আমার ভাই আছে, ও নামাজ পড়তে গিয়েছে। চলে আসবে।’ বলে আর দাঁড়ালাম না। সামনে বিস্তীর্ণ ধান ও সবজী ক্ষেতের মাঝখানে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ তিনটি মঠ।

শোনা যায়, গত বছর একটি ছেলে চূড়ায় উঠতে সক্ষম হয় কিন্তু পা পিছলে নিচে পড়ে তার দূর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এখানে মোট পাঁচটি মঠ ছিল। বর্তমানে তিনটি আছে, বাকি দুটি ভেঙে গেছে। খুব অদ্ভুত কাঠামো মঠগুলোর। অনেকটা মঠ আর প্যাগোডার সংমিশ্রণ। দোর্দণ্ড প্রতাপের এই মঠে এখন শুধুই টিয়া পাখিদের বসবাস। সবচেয়ে বড় মঠের চূড়ায় ছিল নিরেট স্বর্ণের একটি গোলাকার বিশাল পাত। পাঁচ মণ ওজনের সেই স্বর্ণের পাতটিতে সূর্যের আলো লেগে চিকচিক করতো। আর্থিক প্রতিপত্তির নিদর্শনস্বরূপ এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর ওই স্বর্ণপাতের লোভে মঠের চূড়ায় উঠতে গিয়ে কেউ কেউ মারা গেছে, আহত হয়েছে অনেকেই। পরবর্তীতে স্বর্ণপাতটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মঠচূড়া থেকে খসে ডাকাতিয়া নদীতে পড়ে যায়। নদী সংলগ্ন জমিতে চাষ করার সময় এক কৃষক ওটা পেয়েছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে। তারপর ওটার ভাগ্যে কী ঘটেছে বা এখন কোথায় আছে সেই বিশাল স্বর্ণপাত, তা জানা যায়নি।

ট্যাক ট্যাক শব্দে ঘাড় বেঁকিয়ে দেখি মঠটির চূড়ার কিছু টিয়া পাখি ওড়াউড়ি করছে। লালচে ঠোঁটগুলো এতো নিচ থেকেও একদম স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মঠের চূড়ায় বটগাছের সাথে সাথে কিছু গর্তও আছে। গর্তগুলোতে টিয়া পাখির বসবাস। আমি এসে মনে হয় তাদেরকে খুব বিরক্ত করে ফেলেছি। বাসা ছেড়ে কেমন অনিশ্চিত ভঙ্গিতে উড়ছে।

ছোট মঠ দুটির ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। সোর্সঃ লেখিকা

মঠের দ্বিতীয় তলা বা উপরের তলাগুলোতে ওঠার কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই সেখানে কোনো মূর্তি আছে কিনা জানা যায়নি। ভাবছি, তারা নিজেরা কী করে উপরের তলাগুলোতে যেত? এই মঠ আর জমিদারদের নিয়ে গল্পের শেষ নেই। ব্রিটিশ আমলে এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা লোহাগড় গ্রাম পরিদর্শনে এসে লোহ ও গহড়ের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হন। ওই কর্মকর্তার জন্য নদীর তীর থেকে জমিদারবাড়ি পর্যন্ত সিঁকি ও আধুলির ধাতব মুদ্রা দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছিল তারা, যার দৈর্ঘ্য ছিল ২০০ হাত, প্রস্থ দুই হাত ও উচ্চতা একহাত।

অন্য একটা সূত্রে জানা গেছে, যে পুকুরে লোহা ও গহড় গোসল করতো, সে পুকুর থেকে তাদের খাস-কামরা পর্যন্ত তৎকালীন আঠারো মণ মুদ্রা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল একটি রাস্তা। রাস্তাটা যে কারণেই বানানো হোক না কেন, সে রাস্তারও কোনো সন্ধান পরবর্তীতে পাওয়া যায়নি। ভাবছি, পুকুর পাড় থেকে আমি যে রাস্তা পেরিয়ে এলাম, এটাই সেই রাস্তা ছিল না তো?

জমিদার বাড়ির বেহাল দশা। সোর্সঃ লেখিকা

মঠ আর জমিদার বাড়ি নিয়ে গল্পকথার শেষ নেই। বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের কিছু আগে তার বিশ্বাসঘাতক কর্মচারী রাজবল্লভের ছেলে কৃষ্ণবল্লভ খাজনার টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে পালিয়ে আসে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেয় এই লোহাগড় গ্রামের জমিদার। স্থানীয় বয়স্কদের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, এই জমিদারদের আঁধার মানিক নামে একটা জায়গা আছে, যেখানে এদের সমস্ত সম্পদ জমা আছে। আঁধার মানিক হলো গর্তের মতো একটা জায়গা। এটার ভিতরে ঢুকে অনেকেই আর ফিরে আসেনি। এখনো ওভাবেই আছে আঁধার মানিকের কালো গর্তটা।

আঁধার মানিকের থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তৈরি করা হয়েছিল একটি বৈঠকখানা, যা রংমহল নামে পরিচিত ছিল। যতো অসামাজিক, নোংরা কার্যকলাপ হতো এই রংমহলে। তাদের শাসন আমল শেষ হবার পর স্থানীয়রা সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

মন্দিরের প্রবেশপথ। সোর্সঃ লেখিকা

লোহাগহড়ের শাসন আমল শেষ হবার পর তাদের তিন পুত্র: হারাধন রায়, রাম কেশব রায়, যুগেশ চন্দ্র রায় জমিদারী গ্রহণ করেন। এদের মৃত্যুর পর তাদের কাজের মেয়ে তিন ভাইয়ের সমাধিস্থলে ৫টি বিশাল আকৃতির মঠ তৈরি করেন।

এক সময় এই স্থানটি গহীন জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল। তথাকথিত জ্বীন, ভূত, পেত্নীদের সাথে সাথে সাপ, শিয়াল, বেজি, বিচ্ছুসহ অনেক ভয়ঙ্কর প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল এই মঠ এলাকা। ভয়ে কেউ এই এলাকায় পা মাড়াতো না। সময়ের সাথে সাথে মঠ এলাকার গহীনতা কেটে যায়, মঠ এলাকা পরিণত হয় জনপদে। এখনো বর্ষাকালে যখন মঠের চারদিক পানিতে প্লাবিত হয়, তখন একে দুর্ভেদ্য দূর্গ বলে মনে হয়।

এতগুলো বছর এগুলো কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না করা হলেও এখন এটি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজ শুরু হবার কোনো আলামত অবশ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

মোট পাঁচটি মঠ ছিল। বর্তমানে তিনটি আছে, বাকি দুটি ভেঙ্গে গেছে। সোর্সঃ লেখিকা

মঠখোলা থেকে ঘুরে জমিদার বাড়ির সামনে গেলাম। লোহা ও গহড়ের মৃত্যুর পর যেসব কর্মচারী জমিদারি দেখভাল করতেন, তারা গোবিন্দ সাহা ও বঙ্গ চৌধুরী নামে দুই জমিদারের কাছে বিক্রি করে দেন পুরো জমিদারি। বর্তমানে গোবিন্দ সাহার বংশের কেউ ওই গ্রামে নেই। তবে বঙ্গ চৌধুরীর বংশধররা আছেন। অপূর্ব রায়, নির্মল রায়, দুলাল রায় ও চন্দন রায়- এই চার সহোদর বঙ্গ চৌধুরীরই উত্তর প্রজন্ম। তাদের মধ্যে তিন ভাই এখনো জীবিত আছেন। তারা স্থানীয় চান্দ্রাবাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোনোরকমে বেঁচেবর্তে আছেন। জমিদার বাড়িটিতে তারাই এখন বসবাস করছেন। জমিদার বাড়ির কাছেই দুটো মন্দির আছে, মন্দিরগুলোর সামনে এত বেশি গাছ যে রাস্তা থেকে প্রায় চোখের আড়াল হয়ে গেছে।

জমিদার বাড়িতে একটি মাত্র ঘরই বসবাসের যোগ্য। বাকি সবগুলো ঘর পুরোপুরি ধ্বসে গেছে। দোতলায় জমিদারের শোবার ঘরে ওঠার রাস্তা আছে। জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে রয়েছে অব্যবহৃত মন্দির। মন্দিরের প্রবেশপথের উপরে পাহারায় আছে ১৬টি গোখরা সাপের মূর্তি। এটি একটি সুড়ঙ্গের অবশিষ্ট। কথিত আছে, এই সুড়ঙ্গ জমিদার তৈরি করেছিলেন তার বাড়ি থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত।

পুকুর ও গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা মঠের অবয়ব। সোর্সঃ লেখিকা

এসব বাড়ি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে পর্যটন খাত থেকে লাখ লাখ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতো। নিজেদের আমরা মূল্য দেই না। শুধু চাঁদপুরেই দর্শনীয় পুরাকীর্তি আছে বিশটির উপরে। বহু বছর ধরে এগুলো অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এই মঠ ও এর নির্মাতা জমিদার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যই নেই জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে। উত্তরাধিকারীরা এখনো বেঁচে থাকায়, স্থানীয়দের সাহায্যে এই ইতিহাস জানা গিয়েছে।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে চাঁদপুরের প্রতি ঘন্টায় লঞ্চ আছে। লঞ্চ ঘাট থেকে বাসস্ট্যান্ডে এসে সিএনজিতে করে যাওয়া যায়। আপডাউন সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে সুবিধা হবে। কারণ মঠে যাওয়ার রাস্তা বেশ ভাঙা। যাওয়ার সময় খুব একটা সমস্যা না হলেও, ফেরার সময় সহজে গাড়ি পাওয়া যাবে না। আপডাউন সিএনজি রিজার্ভেশনের জন্য ৩০০-৪০০ টাকার বেশি লাগবে না।
ফিচার ইমেজ- blogspot.com

Author

Write A Comment